পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি বাংলাদেশের তরুণী শমিয়া চৌধুরী। সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার তিনি অভিযোগ করেছেন, নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে তাঁদের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। যদিও প্রথমদিকে সরকারি সহায়তায় বিনা খরচে সব ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে এসেছিলেন শমিয়া। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধার জন্য তাঁরা মালভিয়া নগরের ফ্লোরিশ স্টে নামের হোটেলে উঠেছিলেন।

৩ জুন সকালে আচমকা আগুন ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় করিডর ও কক্ষগুলি। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শমিয়া জানতে পারেন তাঁর স্বজনদের আর বাঁচানো যায়নি।
পরে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ভবনটিতে অগ্নি-নিরাপত্তা বিধির একাধিক লঙ্ঘন ছিল। অনুমোদনের চেয়ে বেশি কক্ষ চালানো, কার্যকর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকা এবং জরুরি নির্গমন পথের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে বলে অভিযোগ। এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৩-এ পৌঁছেছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।