পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনের ইতিহাসে যুক্ত হল নতুন অধ্যায়। প্রায় ১৪৫ বছরের পুরনো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে (ডিএইচআর) প্রথমবারের মতো একজন মহিলা ট্রেন টিকিট পরীক্ষক দায়িত্ব পেলেন। এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সরিতা ইয়োলমো। রেলওয়ের প্রেস বিভাগে কর্মরত থাকার পর সরিতা বাণিজ্য বিভাগে যোগ দেন এবং নিউ জলপাইগুড়িতে টিকিট পরীক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সম্প্রতি তাঁকে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের পর্যটন পরিষেবার দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক পাহাড়ি রেলপথে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম মহিলা টিকিট পরীক্ষক হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।আরও পড়ুন:
নিজের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে সরিতা বলেন, শতাব্দীরও বেশি পুরনো এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি রেলপথে প্রথম মহিলা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত প্রায় ৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ পরিচালনা করে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল।
এশিয়ার প্রাচীনতম দুই ফুট চওড়া সরু গেজের এই লাইন সমতল থেকে পাহাড়ে উঠে প্রায় ৬,৮৭০ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করে। নিউ জলপাইগুড়ির গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৩০ ফুট হলেও দার্জিলিংয়ের উচ্চতা ৭,২০০ ফুটের কাছাকাছি।আরও পড়ুন:
১৮৮১ সালে চালু হওয়া দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধু পরিবহণের মাধ্যম নয়, উত্তরবঙ্গের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যও বটে। প্রকৌশলগত বৈশিষ্ট্য, পাহাড়ি পথের অনন্য নকশা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা বলেন, সরিতা ইয়োলমোর এই নিয়োগ কেবল একটি কর্মসংক্রান্ত দায়িত্ব নয়, ভারতীয় রেলের মাঠপর্যায়ের ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক মহিলাকে রেলওয়ের বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।