পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আজ থেকে শুরু হল ২০২৩ এর বাজেট অধিবেশন। ৩১ জানুয়ারি, মঙ্গলবার লোকসভা এবং রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে প্রথম বার বক্তৃতা দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। গত বছরের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মুর্মু প্রথম বাজেট অধিবেশনে ভাষণ দিলেন।
আরও পড়ুন:
মোদি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহিলা ক্ষমতায়নই আমাদের সরকারের মূল পরিকল্পনা। দেশে প্রথমবারের মতো মহিলার সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি এবং মহিলাদের স্বাস্থ্যও আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে। ভারতের মহিলা পৃথিবীর কারও তুলনায় কোনও অংশে কম নয়।
এই প্রসঙ্গে তাঁর অনুবাদ করা একটি লাইন উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'বসুন্ধরা-তালে ভারত-রমণী নুহে হেন নুহে দীন আমার কীর্তি কোটি যুগে কখন জগতুন নোহিব লীন'।আরও পড়ুন:

মুর্মু বলেন, আমি আমার দেশের মেয়ে-বোনেদের দেখে গর্ববোধ করি। তারা উৎকল ভারতীর স্বপ্ন অনুসারে বিশ্ব স্তরে তাদের খ্যাতি অর্জন করছে। সর্বক্ষেত্রেই মহিলাদের নিয়োগ করা হচ্ছে। খনি থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীতে প্রথম সারিতে প্রতিটি সেক্টরে মহিলা নিয়োগের ক্ষেত্র প্রশস্থ হয়েছে। ভারত এমন এক ঐক্যবদ্ধ দেশ হয়ে উঠবে, যেখানে কোনও দারিদ্র থাকবে না, সমৃদ্ধশালী হবে দেশের মধ্যবিত্ত সমাজ।
যে সমাজের নেতৃত্বে থেকে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে যুব ও মহিলা সম্প্রদায়ের সদস্যেরা।আরও পড়ুন:
কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করা থেকে শুরু করে তিন তালাক প্রথা রদ করা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে দমন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এলওসি, এলএসিতে উপযুক্ত জবাব দিয়ে স্থীরবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। নাম না করে কংগ্রেসের ইন্দিরা গান্ধির বিখ্যাত স্লোগানের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। মুর্মু বলেন, দারিদ্র দূরীকরণ এখন আর শুধুমাত্র 'গরিবি হঠাও' স্লোগানে আটকে নেই। তাঁর মতে, দারিদ্র দূরীকরণ এবং দরিদ্র সমাজের ক্ষমতায়নে স্থায়ী সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
আমার সরকার মনে করে, দুর্নীতিই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। সমস্ত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ছোট কৃষকদের সাহায্য করার জন্য অনেক বড় প্রকল্প চালু করেছে। ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে ভারতকে বিশ্বের কারখানা বানানোর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগে খেলনার জন্য চিনের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম, এখন আমদানি ৭০ শতাংশ কমেছে। রফতানি বেড়েছে ৬০ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার অধীনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। এই বছর বছর ভারত জি ২০'র সভাপতিত্ব পেয়েছে।