পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে চাঞ্চল্য ছড়াল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগকে ঘিরে। বুধবার ফলতা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেলসিংহা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, সেখানে জড়ো হওয়া ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে বাহিনীর জওয়ানরা লাঠি চালান। মহিলারাও সেই ধাক্কাধাক্কি ও লাঠিচার্জের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আনা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেই ভিড় সরাতে গিয়ে জওয়ানদের লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায়। হুড়োহুড়ির মধ্যে কয়েকজন মহিলা রাস্তায় পড়ে যান বলেও ভিডিওতে ধরা পড়েছে। এই ঘটনার পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরব হয় তৃণমূল।

দলের মুখপাত্র অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের উপর অত্যন্ত কঠোর আচরণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের উপর যেভাবে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের একশো মিটারের মধ্যে বেশ কিছু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
বাহিনীর তরফে তাঁদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরে জওয়ানরা কঠোর অবস্থান নেন। তারপরই শুরু হয় লাঠিচার্জ বলে জানা যাচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এর আগেও এই কেন্দ্রকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির শেখের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। সেই সময় তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্টভাবে তাদের প্রার্থী, তাঁর পরিবার এবং স্থানীয় সমর্থকদের চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।