রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে প্রথম চার ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩৯.৯৭ শতাংশ। বুধবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটপর্বে বিভিন্ন জেলায় সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ১৮.৩৯ শতাংশ, যা সকাল ১১টার মধ্যে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪০ শতাংশে।

যদিও বেশিরভাগ জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে, তবে বিভিন্ন জেলায় ইভিএম বিকল হওয়ার অভিযোগে একাধিক বুথে সাময়িকভাবে ভোট বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ভোট দিতে না পেরে বহু জায়গায় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এদিন ভোটগ্রহণ চলছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া জেলার মোট ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ইভিএম বিভ্রাটের খবর আসে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত মহকুমায় অন্তত আটটি বুথে, দক্ষিণ হাওড়ার একটি বুথে, সাঁকরাইলে ১৩টি, ডোমজুড়ে ১৭টি এবং জগৎবল্লভপুরে ৬টি বুথে ইভিএমে সমস্যা দেখা দেয়।

ভাঙড়ের তিনটি বুথেও একই অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া ডোমজুড় বিধানসভার বাঁকড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের দুটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে।

এদিন সকালে বালি বিধানসভা কেন্দ্রের সোহনলাল বিদ্যালয় বুথে ইভিএম বিকল হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তৎপরতার অভিযোগ ওঠে। এমনকি ভোটারদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগও সামনে এসেছে, যাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইভিএম বিকল হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কমিশনের মতে, ইভিএম যন্ত্রগুলি তাপমাত্রা সংবেদনশীল, ফলে কোথাও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তা বদলে দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের দাবি, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে।