শেষ প্রচারে মমতার শক্তি প্রদর্শন, সুলেখা থেকে ভবানীপুরে বিজেপিকে উৎখাতের ডাক
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কলকাতায় নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে শক্তির প্রদর্শন করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুলেখা মোড় থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রায় বিপুল জনসমাগমের মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তিনি। প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে তাঁর এই মিছিল কার্যত নির্বাচনী লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠল।
আরও পড়ুন:
সোমবার বিকেলে সুলেখা মোড় থেকে শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা র্যালি। ঢাকুরিয়া ব্রিজ, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি হয়ে সেই মিছিল গিয়ে পৌঁছায় ভবানীপুরে। রাস্তার দু’ধারে সাধারণ মানুষের ভিড় এবং মিছিলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি শহরের রাজনৈতিক আবহকে আরও তপ্ত করে তোলে। এই বিপুল জনসমাগমকে সামনে রেখেই বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া সুরে আক্রমণ শানান তৃণমূল নেত্রী।
আরও পড়ুন:
মিছিলের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“বিজেপির দিন শেষ। দ্বিতীয় দফার ভোটেও ওদের গণতান্ত্রিকভাবে মুছে দিন। উৎখাত করে দিন বাংলা থেকে।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, বাংলার মানুষ ভোটের মাধ্যমেই বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।
আরও পড়ুন:
এদিনের মিছিলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি অংশ নেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি বিরোধী ঐক্যের বার্তাকে আরও জোরালো করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উপস্থিতি বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোটের ইঙ্গিত বহন করছে।
আরও পড়ুন:
প্রচারের শেষ দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ‘আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই’-এর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“এটা আমাদের আত্মসম্মান রক্ষার যুদ্ধ। এই যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।”
তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এবারের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ভোটকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
আরও পড়ুন:
এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে অন্যতম বড় ইস্যু করেছে তৃণমূল। সেই প্রসঙ্গ টেনেও বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, বহু যোগ্য ভোটারকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মমতা বলেন,
“এরা আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রানি করেছে। আরও একবার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে এই চক্রান্তের জবাব দিন।”
এই মন্তব্যে তিনি ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
শুধু ভোট দেওয়ার কথা নয়, ভোটের স্বচ্ছতা নিয়েও সতর্ক থাকার বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন,
“ভোট দিয়েই চলে আসবেন না। ভিভিপ্যাট দেখে নেবেন, যে চিহ্নে ভোট দিলেন, সেই চিহ্নেই পড়ল কি না।”
এই মন্তব্যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর তাঁর অবিশ্বাসের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মমতার এই মেগা র্যালি ছিল জনসমর্থনের বড় প্রদর্শন। একদিকে বিজেপি বিরোধী তীব্র ভাষণ, অন্যদিকে বিপুল জনসমাগম-এই দুইয়ের সমন্বয়ে তৃণমূল শেষ মুহূর্তে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছে।