পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালীন সকাল থেকেই সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিভিন্ন বুথ ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটের আগে রাতভর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। বেছে বেছে তাদের আটক করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে চেতলায় যান মমতা। সেখানে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের এলাকার একটি বুথে পৌঁছে স্থানীয় পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

ফিরহাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সোমবার গভীর রাতে ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, গভীর রাতে বাড়িতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পরিবারের মহিলারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এরপর পদ্মপুকুর রোড হয়ে চক্রবেড়িয়ার দিকে যান মমতা। সেখানে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে যান তিনি।
একটি বুথের বাইরে কিছু সময় বসে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, রাজ্যের বাইরে থেকে আনা পুলিশ আধিকারিকরা বাংলার পরিস্থিতি বা মানুষের মনোভাব বোঝেন না। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার রাতভর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের কর্মীদের উপর চাপ তৈরি করা হয়েছে এবং থানায় থানায় গিয়ে পর্যবেক্ষকরা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় এজেন্টদের গ্রেফতার করতে।
তিনি আরও দাবি করেন, দলের যুব সংগঠনের এক সভাপতিকে বুধবার সকালে আটক করা হয়েছিল। পরে ফিরহাদ হাকিম গিয়ে তাঁকে মুক্ত করেন বলেও জানান মমতা। একটি ভিডিও দেখিয়ে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছলেও তাদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ছিল না।
তাঁর কথায়, সেই সময় কাউন্সিলরের স্ত্রী বাড়িতে একা ছিলেন এবং তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফোন কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু কলকাতা নয়, ভাঙড়েও তৃণমূল কর্মীদের উপর পুলিশের অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সমাজমাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসও একই অভিযোগ সামনে আনে। দলের তরফে জানানো হয়, তারা শান্তিপূর্ণ ভোট চাইলেও বিজেপির ভয় দেখানোর রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না।
সাধারণত ভোটের দিন সকালবেলা বাড়িতে থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ভোট দিতে বের হন ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের বুথে। কিন্তু এদিন সেই পরিচিত রুটিনে বদল দেখা যায়। ভোট শুরুর পর থেকেই বুথে বুথে ঘুরে সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেল তাঁকে।