পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই তপ্ত হয়ে উঠছে। তার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ভবানীপুর। প্রচারের তীব্র লড়াইয়ের মাঝে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র প্রচার কর্মসূচি ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ তুলেছেন, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়াই তিনি পুলিশ আবাসনে ঢুকে প্রচার চালিয়েছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলেই দাবি তাদের।

গত কয়েকদিন ধরেই ভবানীপুরে প্রচার ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।

শনিবার চক্রবেড়িয়া এলাকায় এক মন্দিরের কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভা চলাকালীন উচ্চস্বরে মাইক বাজানোর অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে যে, মাঝপথেই সভা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, এই পরিবেশে সভা করা সম্ভব নয় এবং প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এই ঘটনার আবহেই আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে আনেন জয়প্রকাশ মজুমদার। সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী বডিগার্ড লাইনস পুলিশ আবাসনে প্রবেশ করে প্রচার করেছেন, অথচ তার জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কলকাতা পুলিশের কাছে আগে থেকে কোনও অনুমতি ছিল কি না, এবং এভাবে বাহিরের লোকজনকে নিয়ে পুলিশ চত্বরে প্রবেশ করা আদৌ আইনসিদ্ধ কি না।

এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, ওই সময় উপস্থিত কিছু পুলিশ কর্মীও নাকি প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং স্লোগান তোলেন। যা নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি, কারণ কর্তব্যরত সরকারি কর্মচারীদের সরাসরি রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ। সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের মতে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।