পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ শেষ দফার ভোটের আগে হুগলির গোঘাটে চরম উত্তেজনা তৈরি হল। হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের ওপর। আজ সোমবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম হন সাংসদ এবং তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতাল-এ। পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়তেই কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ঘটনার তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল-এর তরফে নির্দেশ, এফআইআর দায়ের করে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। হামলাকারীরা সাংসদের গাড়ি আটকে বড় পাথর ও লাঠি দিয়ে ভাঙচুর চালায়, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়েও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি। গাড়ির কাচ ভেঙে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান মিতালী বাগ।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাংসদ জানান, কর্মী-সমর্থকদের ডাকে দ্রুত সভাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেই সময় মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাঁর নিরাপত্তারক্ষী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তাঁকে গাড়ি থেকে নামার হুমকি দেয় এবং প্রাণনাশের ভয় দেখায়। কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন বলেই জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন সাংসদ।

তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-র বক্তব্যের পর থেকেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব বেড়েছে।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিন সকালেই গোঘাটের বর্মা এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসে। বিজেপির দাবি, তাদের মিছিলে হামলা চালানো হয় এবং অন্তত একশো জন কর্মী-সমর্থক আহত হন। তাঁদেরও ভর্তি করা হয়েছে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে। পাশাপাশি, স্থানীয় থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। তাদের অভিযোগ, পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মিছিলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।