আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাঘব চাড্ডা, হরভজন সিং-সহ সাত রাজ্যসভা সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবি তুলেছে আপ। এই মর্মে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন-কে চিঠি দিয়েছেন আপের রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং। দলত্যাগ-বিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি এই সাংসদদের সদস্যপদ বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন।

রবিবার সঞ্জয় সিং বলেন, এই সাতজন সাংসদ আপের টিকিটে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু পরে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাই সংবিধানের দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সদস্যপদ বাতিল হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দল বদল করে তাঁরা শুধু আপের সঙ্গেই নয়, ভোটারদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

গত শুক্রবার আপের সাত রাজ্যসভা সাংসদ- রাঘব চাড্ডা, হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল-সহ মোট সাতজন বিজেপিতে যোগ দেন। রাজ্যসভায় আপের মোট সাংসদ সংখ্যা ছিল ১০। ফলে একসঙ্গে এতজন সাংসদের দলত্যাগে আপের সাংসদ শক্তিতে বড় ধাক্কা লেগেছে।

দলবদলের পর রাঘব চাড্ডা দাবি করেন, আপের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ দল ছেড়েছেন। তাই সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে দলত্যাগ-বিরোধী আইন প্রযোজ্য হবে না। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ একসঙ্গে দলত্যাগ করায় এটি আইনি বৈধতার মধ্যেই পড়ে।

যদিও সঞ্জয় সিং এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ধরনের দলবদলের ক্ষেত্রেও সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তিনি বলেন,
“প্রয়োজনে আমরা আদালতে যাব। এটি শুধু আমাদের দলের বিরুদ্ধে নয়, পাঞ্জাবের মানুষ এবং ভারতের সংবিধানের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা।”

আপের বক্তব্য, দলত্যাগী সাংসদরা আপের প্রতীক ও সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য দলে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক নৈতিকতার বিরোধিতা করেছেন। তাই এই বিষয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দলত্যাগী সাতজনের মধ্যে ছয়জনই পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত। ফলে এই ঘটনা পাঞ্জাবের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আপ নেতৃত্বের অভিযোগ, পাঞ্জাবের জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছিলেন, এই দলত্যাগ তার অবমাননা।

এদিকে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে জল্পনা উঠেছিল, পাঞ্জাবের কিছু আপ বিধায়কও বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে সঞ্জয় সিং এই জল্পনাকে ‘ভুয়ো প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি এবং দলত্যাগী সাংসদরাই পরিকল্পিতভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে যাতে আপের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, এই দলত্যাগের ঘটনায় পাঞ্জাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদও দেখা যাচ্ছে। আপের মতে, মানুষের এই প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করছে যে, দলত্যাগী সাংসদদের সিদ্ধান্ত জনগণ ভালোভাবে নেয়নি।