ভোটের আবহে ভবানীপুর কেন্দ্রে জনসংযোগে নতুন মাত্রা যোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বড় জনসভা কিংবা পদযাত্রার বাইরে এবার তিনি জোর দিলেন আবাসনভিত্তিক প্রচারে। রবিবার ভবানীপুরের একাধিক বহুতল আবাসনে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। মহিলাদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ, শিশুদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলা— সব মিলিয়ে একেবারে ‘আপনজন’ হয়ে ধরা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে সারাদিন ব্যস্ত কর্মসূচি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রথমে পদযাত্রা, তারপর দু’টি জনসভা— দিনভর রাজনৈতিক প্রচারের ব্যস্ততার পর সন্ধ্যার দিকে তিনি পৌঁছে যান এলাকার একটি আবাসনে। সেখানে আবাসিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাঁদের মতামত ও অভাব-অভিযোগ শোনেন।
বিশেষ করে আবাসনের মহিলাদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে।
এই সময় অনেক আবাসিকই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পান। মহিলাদের ভিড়ে মধ্যমণি হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং পাড়ারই পরিচিত একজন মানুষ হিসেবে তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন আবাসনের বাসিন্দারা।
শুধু মহিলারাই নন, আবাসনের ছোটরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি, তাঁদের সঙ্গেও ছবি তোলেন। ছোটদের সঙ্গে তাঁর সহজ ও আন্তরিক আচরণ সেখানে উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে। এই দৃশ্য অনেকের কাছেই একজন নেত্রীর মানবিক ও ঘনিষ্ঠ চেহারাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবানীপুরের ‘মেয়ে’ হিসেবেই এবার প্রচারে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শুধু ভোট চাইছেন না, বরং এলাকার মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার চেষ্টা করছেন। আবাসনে গিয়ে সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলার মধ্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট।
এদিনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেকটাই ‘আপনার লোক’ হিসেবে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং অভিযোগ শোনা— এই ধরনের প্রচার সাধারণ ভোটারদের মনে আলাদা প্রভাব ফেলে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন:
আবাসনে জনসংযোগের পর দক্ষিণ কলকাতার জগুবাবুর বাজারেও পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী।
সেখানে ব্যবসায়ী, ফল বিক্রেতা এবং সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। হঠাৎ করে মুখ্যমন্ত্রীকে বাজারের মধ্যে দেখতে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।আরও পড়ুন:
বাজারের ব্যবসায়ীরাও মমতার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে খুশি হন। তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন, বাজারের পরিস্থিতি জানতে চান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এতে তাঁর প্রচারের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।
আরও পড়ুন:
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে রবিবারের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জননেত্রীর পাশাপাশি এক ‘আপনজন’ হিসেবেও ধরা দিলেন। আবাসনের মহিলা, শিশু কিংবা বাজারের ব্যবসায়ী— সকলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চাইলেন, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। ভোটের আগে এই মানবিক ও ঘনিষ্ঠ জনসংযোগ ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রচারে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।