নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেও মানবিকতার নজির গড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফতেপুর এলাকায় তাঁর কনভয়ের সামনে একটি যাত্রীবাহী টোটো উলটে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাটি চোখে পড়তেই কনভয় থামিয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসেন অভিষেক। আহতদের প্রাথমিক সেবার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও করেন তিনি। তাঁর কনভয়ের একটি গাড়িতেই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।

রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার এলাকায় একাধিক নির্বাচনী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনভর রোড শো ও জনসভা শেষে সন্ধ্যায় তিনি সড়কপথে ফিরছিলেন।

ঠিক সেই সময় ফতেপুর এলাকায় একটি দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তার মোড় ঘোরার সময় যাত্রীবোঝাই একটি টোটো হঠাৎ উলটে যায়। এতে টোটোচালক এবং এক যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার ঠিক সেই মুহূর্তেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়। দুর্ঘটনা চোখে পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় কনভয়ের গাড়িগুলি। কোনও রকম দেরি না করে অভিষেক নিজে গাড়ি থেকে নেমে আহতদের খোঁজখবর নেন। তাঁর নির্দেশে আহতদের জল দেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

এরপর তিনি আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জানা গেছে, তাঁর কনভয়ের একটি গাড়িতে করেই আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষজন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক আচরণে মুগ্ধ হন। অনেকেই বলেন, রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষেরা অভিষেকের এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, দুর্ঘটনার সময় অনেকেই পাশ কাটিয়ে চলে গেলেও তিনি নিজে নেমে আহতদের সাহায্য করেছেন। এতে একজন জননেতার মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় মিলেছে।


এই ঘটনার জেরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বও অভিষেকের এই পদক্ষেপকে তাঁর জনমুখী রাজনৈতিক আচরণের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। 

রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ মানুষের বিপদে তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর এই ছবি জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, একই দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি এলাকায় জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পাঁচজন পুলিশ অফিসারকে বদলি করার সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে তিনি কমিশন ও বিজেপির মধ্যে ‘গোপন আঁতাঁত’ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।

অভিষেকের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্তরে এই ধরনের বদলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে ভোটের পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।