লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৭ জন। রবিবার চালানো এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝেও এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। হামলার ভয়াবহতায় বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং হামলার পর স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

একই দিনে ইসরায়েল জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষ চলাকালে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। এর জেরেই পাল্টা এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেল আবিবের। গত কয়েকদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছিল। ফলে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যেকোনো “পরিকল্পিত বা আসন্ন হামলা” ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে। তাঁর ভাষায়,
“আমাদের অভিযান শুধু হামলার জবাব নয়, বরং যেকোনো তাৎক্ষণিক বা উদীয়মান হুমকি প্রতিরোধ করাও এর লক্ষ্য।”

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ইসরায়েল সীমান্ত এলাকায় নিজেদের সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, এমন অবস্থান আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সাতটি শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে শুরু করেছে। বেসামরিক মানুষদের এইভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকে তারা আগাম অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব।

তবে লেবাননের পক্ষ থেকে এই হামলাকে অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক এলাকায় এমন হামলা শুধু প্রাণহানিই বাড়াচ্ছে না, বরং চলমান যুদ্ধবিরতিকেও চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ, এই ধরনের হামলা সীমান্ত উত্তেজনাকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। গাজা যুদ্ধের পর থেকেই এই সীমান্তে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়েছে। এখনকার এই বিমান হামলা সেই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিল।