পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সমর্থনে ফের সরব হলেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি বার্তা পোস্ট করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আত্মবিশ্বাসী সুর— বাংলায় ফের ক্ষমতায় ফিরছেন মমতাই।

অখিলেশ তাঁর পোস্টে লিখেছেন,
“এক অকেলি লড় জায়েগি, জিতেগি অর বড় জায়েগি!”
অর্থাৎ, “তিনি একাই লড়বেন, জিতবেন এবং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবেন।

এই বার্তার মাধ্যমে অখিলেশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই এগিয়ে রাখছেন। তাঁর মতে, তৃণমূল কংগ্রেস শুধু ভোটের লড়াই লড়ছে না, বরং বাংলার আত্মপরিচয় ও মর্যাদা রক্ষার লড়াইও লড়ছে।

অখিলেশ আরও দাবি করেছেন, প্রথম দফার ভোটেই মমতার সরকারের পক্ষে শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের পর সেই ভিত আরও মজবুত হয়েছে এবং তার ওপর দাঁড়িয়ে আরও দৃঢ় সরকার গঠিত হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষেই যাবে।

একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন,
“দিদি হ্যায়, দিদি রহেগি!”
অর্থাৎ, “দিদি আছেন, দিদিই থাকবেন।”
এই স্লোগানের মাধ্যমে তিনি কার্যত জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলার রাজনীতিতে আগামী দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বই নির্ধারক হয়ে থাকবে।

অখিলেশ যাদবের এই প্রকাশ্য সমর্থন রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বার্তা বিরোধী ঐক্যের ইঙ্গিত বহন করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের এক প্রভাবশালী বিরোধী নেতার এই প্রকাশ্য সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। এটি শুধু বাংলার নির্বাচনের প্রসঙ্গ নয়, বরং জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ার দিকেও ইঙ্গিত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের নেতারা এখন একে অপরকে সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অখিলেশের এই মন্তব্য সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এর আগেও বিরোধী জোটের বিভিন্ন নেতাকে মমতার পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে। এবার অখিলেশের এই মন্তব্য সেই সমর্থনের ধারাবাহিকতাকেই আরও জোরালো করল। এতে স্পষ্ট, বিরোধী শিবিরের একাংশ মনে করছে যে, বাংলায় তৃণমূল এখনও সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।