পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বাংলায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যোগী রাজ্য উত্তর প্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। তিনি সেখানে এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট হিসেবেই পরিচিত। পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরেই তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন, একেবারে ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর নাম করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। এনিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুন:
অজয় পাল উত্তর প্রদেশের 'সিংঘম' নামেই পরিচিত। শেষ দফার ভোট ঘিরে রাজ্যে আরও ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অজয় পাল। উল্লেখ্য, ভাঙড়, ক্যানিং, মিনাখাঁ, বাসন্তীর মতো একাধিক এলাকায় বারংবার রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছে।
সেই সুত্রেই অজয় পাল ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর নাম করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "মন দিয়ে শুনুন, অশান্তির চেষ্টা করা হলেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কান্নাকাটি করেও লাভ হবে না।" এক্র একটি ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি পুবের কলম ডিজিটাল) প্রকাশ করে তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।আরও পড়ুন:
দলের ফেসবুক পোস্টে এর সমালোচনা করে লেখা হয়েছে, "নির্বাচন কমিশনের 'সিঙ্ঘম' না কি গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত অফিসার? ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে কোন কীর্তিমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেখুন- যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশ থেকে সরাসরি এক 'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট'-কে বাংলার নির্বাচনী ময়দানে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নাম- আইপিএস অজয় পাল শর্মা, যিনি উত্তরপ্রদেশে "সিঙ্ঘম" নামে পরিচিত।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, জননেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'দুর্ভেদ্য দুর্গ' বলে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে কমিশন তাঁকে নিয়োগ করেছে।" তাঁর সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করে তৃণমূলের পোস্টে লেখা হয়েছে, "এই অফিসারের বিরুদ্ধেই বিশ্বাসভঙ্গ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো মারাত্মক অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। এক মহিলার অভিযোগ, অন্য মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা লুকিয়ে অজয় পাল তাঁকে বিয়ে করে প্রতারণা করেছেন। এমনকি ওই মহিলা যখন পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের কাছে অভিযোগ জানান, তখন তাঁকেই মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এই অফিসার।" তৃণমূলের অভিযোগ, "যার নিজের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং মহিলাদের সাথে প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে দিয়ে বাংলার একটা হাই-প্রোফাইল জেলায় অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট করানোর দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন!" এতে নির্বাচন আদৌ স্বচ্ছ হবে তো? তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।