পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ফের বিতর্ক ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায়। অভিযোগ, লুঙ্গি পরে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছনোয় এক বৃদ্ধ ভোটারকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে পোশাক বদলে আবার ভোট দিতে আসতে হয় তাঁকে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গাইঘাটা বিধানসভার বেড়গুম এক নম্বর পঞ্চায়েতের কুঁচলিয়া এলাকায়। ভোট দিতে গিয়ে অপমানের মুখে পড়া ওই বৃদ্ধের নাম আবদুল রউফ মণ্ডল।

স্থানীয়দের দাবি, সকালে তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই লুঙ্গি পরে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সেখানে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে আটকে দেয়। কেন তিনি লুঙ্গি পরে এসেছেন, সেই প্রশ্ন তোলা হয় বলেও অভিযোগ। এরপর তাঁকে জানানো হয়, এই পোশাকে ভোট দেওয়া যাবে না। অগত্যা ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয় ওই বৃদ্ধকে। পরে নাতির একটি প্যান্ট পরে আবার ভোটকেন্দ্রে আসেন তিনি।
তখন আর তাঁকে আটকানো হয়নি এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন আবদুল রউফ মণ্ডল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু একজন নন, আরও কয়েকজন গ্রামবাসীকেও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। কুঁচলিয়া গ্রামাঞ্চলে বহু বয়স্ক মানুষ প্রতিদিনের মতো লুঙ্গিই পরেন। অতীতের কোনও নির্বাচনেই এই পোশাক নিয়ে আপত্তি ওঠেনি। ফলে আচমকা এমন নিষেধাজ্ঞা ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।
পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে ভোটারকে চড় মারার অভিযোগ সামনে এসেছে। বাগদাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। তার মধ্যেই গাইঘাটার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তৃণমূল নেতৃত্বও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই অবস্থান থেকে সরে আসে বাহিনী। এরপর লুঙ্গি পরা ভোটারদের আর বাধা দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।