পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন ভবানীপুরে তৈরি হল তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। বুথ পরিদর্শনে কালীঘাট এলাকায় পৌঁছতেই বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ঘটনাস্থলে বারবার জয় বাংলা স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকার আবেদন করেন শুভেন্দু। পরে এলাকায় পৌঁছে বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, যাঁরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন তাঁরা কেউই স্থানীয় নন, বাইরে থেকে আনা হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ঘিরে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি তাঁর উপর হামলার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই ফোনে নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর আবেদনও জানান তিনি। ফোনালাপে তাঁকে বলতে শোনা যায়, আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠান।
সকাল থেকেই ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
ভোটের শুরুতেই চক্রবেড়িয়া এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর প্রায় মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছড়ায়। পরে কালীঘাটের জয় হিন্দ ভবনে বুথ পরিদর্শনে গেলে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, হরিশ মুখার্জি রোড সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে ঘিরে স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূল সমর্থকেরা।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় পৌঁছে ভিড় সরানোর চেষ্টা করে। অভিযোগ, কয়েক জায়গায় লাঠিচার্জও করা হয়।
সেই সময় ‘বহিরাগত’ সন্দেহে কয়েক জনকে ধরতে বাহিনীর সঙ্গে ছুটতেও দেখা যায় শুভেন্দুকে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। দলের অভিযোগ, এলাকায় ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। বিজেপি প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কাউন্সিলার কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ করেছেন। কেউ ওঁর উপর হামলা করেনি। উনিই বারবার এসে অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন।