পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কলকাতা হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশে সিবিআইয়ের নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল সোমবার আরজি কর হাসপাতাল পরিদর্শন করল। সূত্রের খবর, ৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল এদিন হাসপাতালে পৌঁছে ঘটনার বিভিন্ন দিক নতুন করে খতিয়ে দেখে। তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তারা সরাসরি ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেন।

হাসপাতালের বর্তমান সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হাসপাতালের একাধিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে নাইট ডিউটি চলাকালীন এক তরুণী চিকিৎসকের নিথর দেহ হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমে কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে হস্তান্তরিত হয়। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার পর আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা প্রদান করে। তবে নিহত চিকিৎসকের পরিবার শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে যে, এই ঘটনায় শুধুমাত্র একজন নয়, বরং আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশ থাকতে পারে।
তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত সত্য এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি এবং তদন্তের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধামাচাপা পড়ে আছে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই মামলার নথিপত্র পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ঘটনার দিন রাত থেকে শুরু করে শেষকৃত্য পর্যন্ত সমস্ত ঘটনাক্রম নতুন করে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি আরজি কর মামলার সঙ্গে যুক্ত যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তদন্তের আওতায় আনার পূর্ণ স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছে। সোমবারের এই পরিদর্শনের পর স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে নতুন করে জল্পনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, এবার হয়তো ঘটনার গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।