পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে কেরলের তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপাচার্যদের যোগদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন এবং বিরোধী দলনেতা পিনরাই বিজয়ন উভয়েই একযোগে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্রের খবর, সংঘের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—ডা. মোহনন কুন্নুম্মল (কেরালা ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস), ডা. মাভুথু ডি (মহাত্মা গান্ধী ইউনিভার্সিটি) এবং ডা. সি আর প্রসাদ (মালায়লাম ইউনিভার্সিটি)। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা পিনরাই বিজয়ন।

তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ কেরলে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। বিজয়নের কথায়, "বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সংঘ পরিবারের এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, উপাচার্যদের এই উপস্থিতি তারই এক বাস্তব ও স্পষ্ট উদাহরণ।" একই সাথে এই বিষয়ে বর্তমান সরকারের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কড়া বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, "কেরলের মানুষ উপাচার্য পদটিকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখে।

চরম সাম্প্রদায়িকতার প্রচার করা একটি সংগঠনের প্রধানের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁরা সেই সম্মানকে কালিমালিপ্ত করেছেন। যে কেউই হোক না কেন, সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো কোনো আচরণ কেরলের মাটিতে বরদাস্ত করা হবে না।" মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তিন উপাচার্যকেই কেরলের সাধারণ মানুষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী শিবিরের এই আক্রমণের মুখে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। কেরলের রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর লেখেন, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ এবং জামায়াত-ই-ইসলামীর মতো সংগঠনের সমর্থনের ওপর টিকে থাকা সরকারের অন্য কাউকে ধর্মনিরপেক্ষতা বা সাংবিধানিক মূল্যবোধ নিয়ে জ্ঞান দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম) দু'জনেই এখানে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করছে।