প্রায় ১১ ঘণ্টার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে ফের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তকারী সংস্থা যতবার ডাকবে, ততবারই তিনি হাজিরা দেবেন। একই সঙ্গে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করতে ‘দল ভাঙানোর রাজনীতি’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিল ইডি। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই সকাল ১০টা ৫৬ মিনিট নাগাদ তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন।

তার আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। সূত্রের খবর, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েই এদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সারাদিন ধরে চলা জেরার পর রাত ১০টার কিছু পরে ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমাকে যতবার ডাকা হয়েছে, ততবারই এসেছি। আবার ডাকলে আবার আসব।

তদন্তে আগেও সহযোগিতা করেছি, এখনও করছি।”

অভিষেকের দাবি, ২০২৩ সালের পর এই মামলায় তাকে আবার তলব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দিয়েছেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।

এদিন বিজেপিকে পরোক্ষে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলিকে দুর্বল করতে এবং বিরোধী দলনেতার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত রাখতেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তার কথায়, “দল ভাঙানো, বিধায়ক-সাংসদ ভাঙানোর খেলা চলছে।

এসব করে কোনও লাভ হবে না। গলা কেটে দিলেও আমরা আত্মসমর্পণ করার লোক নই। লড়াই চলবে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় দু’দফায় ভবানী ভবনে সিআইডির জেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। আগামী মঙ্গলবার ‘ডিজে মন্তব্য’ সংক্রান্ত মামলায় ফের ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।