পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এবার আক্রান্ত হলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। জয়পুরে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ঘটনার সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি আচমকা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে, যা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আজ সোমবার জয়পুরের জনসমাবেশে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন।

এদিন জয়পুরে বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি, যেখানে বহু যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেছিলেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানোর লক্ষ্যেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ দীপকে নিজেও। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে (যার সত্যতা পুবের কলম ডিজিটাল যাচাই করেনি)। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভিড়ের মধ্যে সমর্থকদের কাঁধে চড়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় সামনে থেকে কয়েকজন যুবক আচমকা তাকে আক্রমণ করেন। এই আকস্মিক ঘটনায় বিক্ষোভস্থলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তেজিত সমর্থকরা অভিযুক্তদের ধরে ফেলে এবং পুলিশের হস্তক্ষেপে বাধা দেওয়ার আগেই তাদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়।

পরবর্তীতে পুলিশ জানায়, এই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে অভিজিৎ দীপকে এটিকে কাপুরুষোচিত আচরণ বলে বর্ণনা করেছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, এই ধরনের হামলা ভয়ের লক্ষণ মাত্র। আমরা আমাদের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে লড়াই চালিয়ে যাব। উল্লেখ্য, নিট, সিবিএসই, সিইউইটি এবং এসএসসি সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে সিজেপি।

সেই ধারাবাহিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এদিন জয়পুরে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছিল।

এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি তাদের প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছিল। সেখানে বিশিষ্ট জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক তাদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে যোগ দিয়েছিলেন। সেই বিক্ষোভ থেকেই অভিজিৎ দীপকে বার্তা দিয়েছিলেন যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন জয়পুরের কর্মসূচীর জন্য প্রথমে পুলিশ অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেও পরে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করে। ৮০০ জনের বেশি মানুষকে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল এবং কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিজেপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল নাগপুরে তাদের পরবর্তী বিক্ষোভ কর্মসূচী আয়োজিত হতে চলেছে।