পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ২০২২ সালের চাঞ্চল্যকর অঙ্কিতা ভান্ডারি হত্যা মামলায় এবার গ্রেফতার হলেন উত্তরাখণ্ডের এক বিজেপি নেতা। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু ভাইরাল অডিও ও ভিডিও ক্লিপের তদন্তে নেমে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক সুরেশ রাঠোরকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার হরিদ্বার জেলার বুগ্গাওয়ালায় অবস্থিত তাঁর কার্যালয় থেকে রাঠোরকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে দেরাদুনের ডালানওয়ালা থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদের পরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ সুপার প্রমোদ কুমার জানিয়েছেন, রবিবার রাত থেকেই রাঠোরকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু অডিও এবং ভিডিও ক্লিপে অঙ্কিতা ভান্ডারি হত্যা মামলার সঙ্গে যুক্ত ভিআইপি-র নাম উল্লেখ করেছিলেন রাঠোর। অভিযোগ রয়েছে, ওই ক্লিপগুলিতে তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা উত্তরাখণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দুষ্যন্ত কুমার গৌতমের নাম জড়িয়েছিলেন।

এই ঘটনার জেরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডালানওয়ালা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন দুষ্যন্ত কুমার গৌতম। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁকে এবং বিজেপির অন্যান্য নেতাদের বদনাম করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ওই ভিডিও ও অডিও ক্লিপ ছড়ানো হয়েছে।

তবে সুরেশ রাঠোর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি কোনও ভিডিও প্রকাশ করেননি কিংবা কোনো বিতর্কিত মন্তব্যও করেননি। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, আমার বক্তব্যে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত। একই সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

রাঠোরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি এফআইআরের মধ্যে দুটি গত ৪ জুন খারিজ হয়ে গেলেও, ডালানওয়ালা ও নেহেরু কলোনি থানায় দায়ের হওয়া বাকি দুটি মামলায় তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট। আদালতের কাছে স্বস্তি চেয়ে আবেদন করলেও তিনি সম্পূর্ণ রেহাই পাননি।

এদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী দেশরাজ কর্ণওয়াল রাঠোরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, হাইকোর্টের রায় নিয়ে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পাউরি জেলার একটি রিসর্টে কর্মরত ১৯ বছর বয়সি রিসেপশনিস্ট অঙ্কিতা ভান্ডারি নিখোঁজ হন। কয়েকদিন পর একটি খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হলে গোটা উত্তরাখণ্ডে তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়। মামলায় রিসর্টের মালিক পুলকিত আর্য-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তারা দোষী সাব্যস্ত হয়। তদন্ত চলাকালীন অভিযোগ ওঠে, অঙ্কিতাকে এক ভিআইপি অতিথিকে বিশেষ পরিষেবা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগ ঘিরেই মামলাটি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।