পুবের কলম, মুম্বই: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হতে চলেছে। এই মেগা ঘোষণার পরেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশেরও বেশি পড়ে গেছে। আর বিশ্ববাজারের এই বড়সড় পরিবর্তনের সরাসরি সুফল পেল ভারতের অর্থনীতি। সোমবার আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি এক নজিরবিহীন ও তীব্র গতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এদিন লেনদেনের শুরুতেই ডলার প্রতি রুপির দাম ৫৮ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪.৬০ রুপিতে পৌঁছে যায়।

যেখানে বাজার খুলেছিল ৯৪.৭০ রুপিতে। উল্লেখ্য, এর আগের দিনও রুপি ৬৭ পয়সা মজবুত হয়ে ৯৫.১৮-তে বন্ধ হয়েছিল। মে মাসের রেকর্ড পতন সামলে রুপির এই সাম্প্রতিক ঘুরে দাঁড়ানোকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের খবর, বাজারের এই অভাবনীয় উত্থানের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।

এর ফলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হচ্ছে। এই খবরের জেরে আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ৪.৫ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। ভারতের মতো বৃহৎ তেল আমদানিকারী দেশের জন্য এটি স্বস্তির খবর। কারণ এর ফলে আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য ক্ষেত্র মারাত্মকভাবে উপকৃত হবে।

তেলের দাম কমায় দেশের তেল আমদানি বিল অনেকটাই কমবে, যা ভারতের ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট বা লেনদেন ভারসাম্যের ওপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। গত মে মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি সর্বনিম্নে (৯৬.৯৬ রুপি) পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু এখন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে রুপি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

জ্বালানি খরচ কমার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নতির আশায় এদিন সকালে ভারতীয় শেয়ার বাজারেও ব্যাপক ধুমধাম দেখা যায়। বাজার খোলামাত্রই বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ‘সেন্সেক্স’ ১১০০ পয়েন্টেরও বেশি লাফিয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ‘নিফটি’ ৩৩০ পয়েন্টের বেশি গণ্ডি পার করে। অন্যান্য প্রধান বৈশ্বিক মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলার নিজেই কিছুটা দুর্বল হয়েছে। বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার তুলনায় ডলারের শক্তি পরিমাপক ‘ডলার ইনডেক্স’ ০.২২ শতাংশ কমে ৯৯.৫৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা ভারতের মতো উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।