পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ আগে কখনও বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠেনি কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেইদিক দিয়ে বিচার করলে দুই দেশের কাছেই ম্যাচটা ছিল ঐতিহাসিক। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রি,কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল কানাডা। কানাডার ফুটবল ইতিহাসে এই জয় গৌরবজনক অধ্যায়। এই প্রথমবার শেষ ষোলোয় পৌঁছে সোনালী মুহূর্ত তৈরি করল কানাডা। আর এই সোনালী মুহূর্ত তৈরি করতে কানাডাকে অপেক্ষা করতে হল ৯২ মিনিট পর্যন্ত।
যেহেতু নকআউট পর্ব, ৯০ মিনিট বিপক্ষকে আটকে রাখলে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকার পর্যন্ত পৌঁছনো যাবে, তাই কোনও দল ঝুঁকির রাস্তায় হাঁটেনি। শুরু থেকেই দুই দলের রক্ষণাত্মক ফুটবল।
প্রথমার্ধে দুই দলের সামনেই গোল করার মতো পরিস্থিতি খুবই কম তৈরি হয়েছিল। তবে প্রথম থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কানাডার হাতে। প্রথমার্ধে এগিয়েও যেতে পারত। কানাডা শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ দেখেনি দক্ষিণ আফ্রিকার জমাট রক্ষণের কারণে। তারমধ্যেই ৪৪ মোইসে বোম্বিটোর শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন আব্রে মদিবা। ফিরতি বলে তাজোন বুকাননের শট দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস দুর্দান্তভাবে বাঁচান। বিরতির ঠিক আগে রিচি লারিয়াকে বক্সে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টির আবেদন করেছিল কানাডা। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পরও রেফারি পেনাল্টি দেননি।আরও পড়ুন:
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও সেই একই ছবি। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই রক্ষণাত্মক ফুটবল। প্রোটিয়ারা চাইছিল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে। নিজের রক্ষণভাগের সামনে প্রাচীর গড়ে তুলেছিল। এর মাঝেই প্রতি আক্রমণে উঠে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার অসউইন অ্যাপোলিস একটা সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। কাজে লাগাতে পারেননি। কানাডার তানি ওলুওয়াসেয়ি একবার দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক উইলিয়ামসকে একা পেয়েও পরাস্ত করতে পারেননি।
৭৪ মিনিটে কানাডার তারকা খেলোয়াড় আলফান্সো ডেভিস চোট সারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন।
ডেভিস নামতেই কানাডার আক্রমণভাগে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেন। গতি আনলেও ম্যাচের ছবিটা খুব একটা বদলাতে পারেননি কানাডার এই তারকা ফুটবলার।আরও পড়ুন:
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন কানাডিয়ান মিডফিল্ডার স্টেফান ইউস্তাকিও। ম্যাচের ইনজুরি সময়ের ২ মিনিটের মাথায় অ্যালিস্টার জনস্টনের সেন্টার দক্ষিণ আফ্রিকার একজন ডিফেন্ডার হেড করে বিপদমুক্ত করেন। বক্সের বাইরে বল পড়তেই বুক দিয়ে নামিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জড়িয়ে দেন স্টেফান ইউস্তাকিও। এই গোলেই ইতিহাস কানাডার। এমন সময়ে গোল, তখন আর ম্যাচে ফেরার সময় ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা খেলবে হল্যান্ড ও মরক্কো ম্যাচে জয়ী দলের বিরুদ্ধে।