পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশনকে কেন্দ্র করে দেশের জাতীয় রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায়, শুক্রবার যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে সশরীরে হাজির হলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও মুখপাত্র পবন খেরা। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে 'অসংবেদনশীল' বলে তীব্র আক্রমণ করেন। কংগ্রেস নেতা বলেন, এই সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভাষা বোঝে না।

উল্লেখ্য, 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র ব্যানারে পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে লাগাতার অনশন চালাচ্ছেন ৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুক। আজ তাঁর অনশন ২০তম দিনে পদার্পণ করল।

অনশনমঞ্চে পৌঁছে সোনম ওয়াংচুক এবং তাঁর সাথে থাকা অনশনকারী শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পবন খেরা। তিনি বলেন, "গতকালই আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল সামাজিক মাধ্যমে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

আমরা সবাই সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। কিন্তু কেন্দ্রে এমন এক অসংবেদনশীল সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, যারা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের ভাষা বোঝে না। এই ধরণের একগুঁয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পদ্ধতিকেও ক্রমাগত বিবর্তিত বা উন্নত করতে হবে। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এই সরকারের কাছ থেকে কিছুই আদায় করা সম্ভব নয়।
"

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনম ওয়াংচুক বা 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র এই আন্দোলনে সরাসরি কংগ্রেসের শামিল হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে একাংশের মধ্যে কিছুটা সংশয় ছিল। কিন্তু সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে কংগ্রেস সংসদীয় দলের বৈঠকে খোদ সোনিয়া গান্ধি সমস্ত সংশয় উড়িয়ে দিয়ে ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। বৈঠকে সোনিয়া গান্ধি একটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৮৪ সালে লাদাখবাসীদের তফশিলি উপজাতির মর্যাদার দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের বাবা সোনম ওয়াংয়াল আমরণ অনশনে বসেছিলেন। সেই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি স্বয়ং বিমানে উড়ে লাদাখের লেহ-তে পৌঁছেছিলেন এবং ওয়াংয়ালের সাথে কথা বলে তাঁকে অনশন ভাঙাতে রাজি করিয়েছিলেন। ইতিহাসের সেই নজির টেনেই সোনিয়া স্পষ্ট করে দেন যে, সমাজকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো কংগ্রেসের ঐতিহ্য।

সোনিয়ার এই নির্দেশের পরই কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এক্স-এ লেখেন, "সোনম ওয়াংচুকের উদ্বেগ আসলে আমাদের এবং সমস্ত বিরোধী দলগুলিরই উদ্বেগ। আমরা সংসদে এবং সংসদের বাইরে মোদী সরকারের মুখোমুখি হতে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকব।"