পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চলতি বছরের ৩৩তম একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস কলকাতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরল। দলের অন্দরে ফাটল চওড়া হওয়ায় মমতাপন্থী এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবির আলাদাভাবে ধর্মতলায় সভার আয়োজন করেছিল। তবে এর পাশাপাশি সব চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কংগ্রেসের শহিদ স্মরণের মঞ্চ।

 দীর্ঘকাল পর বিধানভবনের গণ্ডি পেরিয়ে খোলা আকাশের নীচে শহিদ মিনারে সভা করল হাত শিবির। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে তোপ দেগেছিলেন রাহুল গান্ধী, সেই কংগ্রেসেরই শহিদ মঞ্চে জ্বলজ্বল করল মমতার পুরনো ছবি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানের মূল নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সেদিনের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলন এবং পুলিশের লাঠিচার্জের স্মৃতি উসকে দিতে বাধ্য হয়েই আন্দোলনের প্রধান মুখ মমতাকে হাতিয়ার করতে হয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন দলটিকে।

তবে আন্দোলনের ইতিহাসকে সম্মান জানালেও রাজনৈতিক আক্রমণের সুযোগ বিন্দুমাত্র হাতছাড়া করেনি কংগ্রেস নেতৃত্ব। শহিদ মিনারের সভামঞ্চে ১৯৯৩ সালের মহাকরণ অভিযানের ছবির পাশাপাশি একটি বিশেষ গ্যালারিও তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ২০০৩ সালের একটি বিতর্কিত ছবিতে এনডিএ চেয়ারম্যান জর্জ ফার্নান্ডেজের সঙ্গে মমতাকে এক মঞ্চে দেখা যায়।

ওই ছবিটির নিচে ক্যাপশনে লেখা ছিল যে, এটি কেবল অন্যায় নয়, রীতিমতো পাপ। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের সুস্পষ্ট যুক্তি, সেদিনের আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং কংগ্রেস কর্মীদের ওপর হওয়া পুলিশি সন্ত্রাস যেমন ঐতিহাসিক সত্য, তেমনই পরবর্তীকালে তাঁর নেওয়া বেশ কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপও কঠোর সমালোচনার দাবি রাখে।

এ দিনের এই শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ১৯৯৩ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত যুব কংগ্রেস কর্মী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাদা বিকাশ। অন্যদিকে, অপর এক শহিদ মুরারি চক্রবর্তীর পরিবারের তরফে কংগ্রেস নেতা শুভঙ্কর সরকারকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়। আমন্ত্রণের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানালেও ওই চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে যে, তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁরা প্রিয়জন হত্যার কোনও আইনি বিচার পাননি। সেই চরম হতাশা এবং ক্ষোভ থেকেই চলতি বছর কোনও রাজনৈতিক দলের শহিদ সমাবেশেই অংশগ্রহণ না করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁদের পরিবার।