পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বঙ্গ নির্বাচনের পারদ যত চড়ছে, জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ততই স্পষ্ট হচ্ছে। এবার তৃণমূল নেত্রীর সমর্থনে জোরালো সওয়াল করলেন ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক তথা শিবসেনা (উদ্ধব শিবির) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। মমতাকে ‘বাংলার বাঘিনী’ আখ্যা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এই লড়াইয়ে তৃণমূলেরই জেতা উচিত।

বাংলায় নির্বাচনী লড়াইয়ে কংগ্রেস ও বামেরা তৃণমূলের বিরোধী শিবিরে থাকলেও, জাতীয় স্তরের ইন্ডিয়া জোটের বাকি শরিকরা কিন্তু মমতার পাশেই দাঁড়িয়েছেন।

শুরু থেকেই মমতার পাশে দাঁড়িয়ে সুর চড়িয়েছেন। বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীও তৃণমূলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর স্ত্রী সরাসরি বাংলায় এসে মমতার হয়ে প্রচার করেছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন উদ্ধব ঠাকরে।

তাঁর এই সমর্থনকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

মহারাষ্ট্রের একটি সভা থেকে উদ্ধব ঠাকরে একদিকে যেমন মমতার প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিসকে। ফড়ণবিস সম্প্রতি বাংলায় প্রচার করতে যাওয়ায় কটাক্ষ করে উদ্ধব বলেন, “মহারাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলার বেহাল দশা, মাদক কারবার চলছে, স্বঘোষিত ধর্মগুরুরা র‍্যাকেট চালাচ্ছে—আর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় গিয়ে প্রচার করছেন!”

বাংলার নির্বাচনে নজিরবিহীন নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকেও বিঁধেছেন উদ্ধব।

তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ২০ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বাংলা জেতার চেষ্টা করছে, অথচ মণিপুরের জাতিদাঙ্গা রোখার সময় ৫০ হাজার বাহিনীও পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, বিপুল বাহিনী নামিয়ে জেতার পর কৃতিত্ব দাবি করা বিজেপির অভ্যেস।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উদ্ধব ঠাকরের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। লোকসভা নির্বাচনের আগেও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এমনকি নির্বাচনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মহারাষ্ট্রে গিয়ে উদ্ধবের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন। ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরে তাঁদের এই ‘আলাদা রসায়ন’ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই এবার বাংলার নির্বাচনের প্রাক্কালে আরও একবার স্পষ্ট হলো।