পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের আবহে অনুপ্রবেশ ইস্যু এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিদ্ধ করে তাঁর সাফ কথা, সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ যখন কেন্দ্রের অধীনে, তখন অনুপ্রবেশের দায় কেন রাজ্য নেবে? একইসঙ্গে পাকিস্তানের হুমকির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
 
বিজেপির ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বের পাল্টা জবাব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “বাংলায় কথা বললেই ঘুষপেটিয়া আর রোহিঙ্গা বলা হচ্ছে!

এমনকি দিল্লিতে বাংলায় কথা বললে হোটেল পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। এটা বাংলার মানুষের অপমান।” বিএসএফ-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁর প্রশ্ন, সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ তো কেন্দ্রের অধীনে, তাহলে অনুপ্রবেশ হলে দায়ী কে?
মতুয়া এবং রাজবংশীদের ভোট কাটছাঁট করা নিয়ে কেন্দ্রের অভিসন্ধি কী? যাঁদের ভোটে বিজেপি সরকার গড়েছে, আজ কেন তাঁদেরই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?
 
সম্প্রতি পাকিস্তানের এক মন্ত্রীর কলকাতাকে নিশানা করে দেওয়া মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, দেশ আক্রান্ত হওয়ার হুমকি পেলেও প্রধানমন্ত্রী কেন চুপ করে আছেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বলেন কী করে? প্রধানমন্ত্রী গতকাল বাংলায় এলেও কেন এ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করলেন না? কেন কোনো পদক্ষেপ করা হলো না?” তিনি আরও যোগ করেন, “ভোটের আগে কি আরও একটা ‘পহেলগাম’ স্টাইল ব্লু-প্রিন্ট তৈরির চেষ্টা চলছে? পাকিস্তান আমাদের শহরকে আক্রমণের কথা বলছে আর প্রধানমন্ত্রী মুখে প্লাস্টার লাগিয়ে বসে আছেন। যে মানুষের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হলেন, তাঁদের সুরক্ষা দিতে না পারলে আগে আপনি পদত্যাগ করুন।”