পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্যদোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে পরিচিত মুখ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বাম আমলে রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সব ক্ষেত্রেই মমতার পাশে ছিলেন তিনি। সেই আস্থা থেকেই বর্তমানে রাজ্যের অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ তৃণমূল নেত্রী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আবারও তাঁকেই দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত শনিবার ব্যারাকপুর মহকুমা শাসকের দফতরে সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে মনোনয়নের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের এবং স্বামীর আয়, সম্পত্তি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ৭১ বছর বয়সী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে নগদ রয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার ২৪০ টাকা।
তবে তাঁর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা অর্থের পরিমাণ মোট ১ কোটি ১০ লক্ষ ৪৬ হাজার ১৬২ টাকা। পরিবহনের জন্য তাঁর কাছে একটি ব্যক্তিগত চারচাকা গাড়িও রয়েছে। ২০১৬ সালে কেনা ওই মহিন্দ্রা স্করপিও গাড়িটির আনুমানিক বর্তমান মূল্য প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা। এছাড়াও তাঁর কাছে রয়েছে কিছু সোনার ও হিরের গয়না। যার মধ্যে আছে ১২ গ্রাম ওজনের সোনার চেন, ৮ গ্রামের সোনার আংটি, একজোড়া হিরের আংটি এবং ৮ গ্রাম সোনার বালা। এই অলংকারগুলির মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।আরও পড়ুন:
সব মিলিয়ে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৪ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৯ টাকা।
অন্যদিকে, তাঁর স্বামী সমীর বসুর নামে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ তুলনায় অনেক কম, মাত্র ২ লক্ষ ২৯ হাজার ১৪০ টাকা। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। অস্থাবর সম্পত্তিতে কোটিপতি হলেও স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। হলফনামা বলছে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বা তাঁর স্বামীর নামে কোনও কৃষিজমি, বাস্তুজমি বা নিজস্ব কেনা বাড়ি নেই। তিনি ঠিকানা হিসেবে কলকাতার গার্চা রোডের একটি বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সেটি তাঁদের মালিকানাধীন নয়। ১৯৯৪ সালের ২৫ মে একটি লিজ চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৬০০ বর্গফুটের ওই বাড়িটি ব্যবহার করছেন তাঁরা। যেহেতু এটি লিজহোল্ড সম্পত্তি, তাই হলফনামায় এর বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়নি।আরও পড়ুন:
তাঁর ব্যক্তিগত ঋণ নেই, এমনকি কোনও সরকারি বকেয়া নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত বেতন ও ভাতা। আয়কর দফতরে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৫০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও তিনি যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত। কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে বাণিজ্যে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৭৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন। রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।