পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মালদহের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে তিনি অমিত শাহকে আহ্বান জানান, সরাসরি সেই ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আরও পড়ুন:
শনিবার মানিকচকের এনায়েতপুর গ্রামীণ গ্রন্থাগার ফুটবল ময়দানে তৃণমূলের জনসভায় যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রসঙ্গও তোলেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি জানতে চান, কার কার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে।
তখন সভায় থাকা বহু মানুষ হাত তুলে জানান, তাঁদের নাম তালিকা থেকে কাটা গেছে।আরও পড়ুন:
এই দৃশ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত মানুষের নাম বাদ গেলে ভোট দেবে কারা? কটাক্ষের সুরে বলেন, “তাহলে ভোট দেবে কে? ভ্যানিশ কুমার?” এরপরই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, এই সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মমতার অভিযোগ, বিজেপির চাপে নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বেছে বেছে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা কোনও ধর্ম মানে না। ওদের একটাই ধর্ম—দাঙ্গা বাঁধানো।”আরও পড়ুন:
সভা মঞ্চ থেকেই তৃণমূলের জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে সাহায্য করতে হবে। ভোটের প্রচারের পাশাপাশি এই কাজেও দলীয় কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মমতা জানান, প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তাও দেবে তৃণমূল। এদিকে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের উদ্দেশে শান্ত থাকার আবেদনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে। তৃণমূল সেই প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বাইরের লোক এনে সেখানে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। যার জেরে শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দেরই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে এবং গ্রেফতারির ঘটনাও ঘটেছে।