পুবের কলম, ময়নাগুড়ি: উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কাল বলবে এনআরসি করবে, ডিটেনশন ক্যাম্প করবে। আমি বেঁচে থাকতে এ সব হবে না।” মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশকে ‘মধ্যরাতের তাণ্ডব’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
একই সঙ্গে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার রাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকে সরানোর প্রসঙ্গ টেনেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।মমতা বলেন, “মধ্যরাতে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তা নিয়ে আমরা গর্ব করি। কিন্তু এখন গণতন্ত্র মানা হচ্ছে না, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।” তাঁর অভিযোগ, বারবার মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে—নোটবন্দি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নানা প্রক্রিয়ায়। সভা থেকে প্রশ্ন তোলেন, কেন একজন ভারতীয় নাগরিককে বারবার প্রমাণ করতে হবে যে তিনি এ দেশেরই বাসিন্দা। পাশাপাশি গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “মানুষ খেতে পাবে না, আবার পুরনো দিনে ফিরে যেতে হবে।” নির্বাচনী স্লোগানও শোনান তৃণমূল নেত্রী। ছড়া কেটে বলেন, “১-২-৩-৪, বিজেপির হবে হার। ১-২-৩-৪, তৃণমূল জিতবে আবার।”
অসমের প্রসঙ্গ টেনে দলীয় প্রার্থীদের সতর্ক করেন মমতা। তিনি বলেন, সেখানে বহু মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাই পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থীদের কাগজপত্র ভালো করে যাচাই করার পাশাপাশি আইনজীবী সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেন। এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা’র অভিযোগও তোলেন তিনি। দাবি করেন, বাংলাকে ভেঙে দেওয়ার ছক রয়েছে এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে আলাদা করার চেষ্টা চলছে, যা তিনি আটকে দিয়েছেন।