পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার মতোই বদলাচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও। অসময়ের বৃষ্টি আর সান্দাকফুতে তুষারপাতের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ারের তথাকথিত ‘গেরুয়া গড়’-এও দেখা যাচ্ছে অস্থিরতা। এই প্রেক্ষাপটেই আজ, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ থেকে ‘বিজেপি হটাও’ অভিযান শুরু করতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
 
সম্প্রতি প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ময়নাগুড়িতে জেলা কার্যালয়ে তালা ঝুলছে, মালবাজারে ‘বহিরাগত’ প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, নাগরাকাটাতেও কর্মী-সমর্থকদের অসন্তোষ বাড়ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরবঙ্গে ছুটে আসতে হয়েছে বিজেপি নেতা সুনীল বনশল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব-কে। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই ডুয়ার্স অঞ্চলের চালসায় জনসংযোগ কর্মসূচি দিয়ে নিজের প্রচার শুরু করছেন মমতা। মাল ব্লকের জ্যোতি আশ্রম ক্যাথলিক চার্চে তিনি আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি মহকুমার চা-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
 
ডুয়ার্স অঞ্চলে চা-বাগান শ্রমিকদের উন্নয়ন এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যু। কেন্দ্রীয় সরকারের চা-বাগান অধিগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের ‘চা সুন্দরী’ আবাসন প্রকল্প, বিনামূল্যে রেশন, বিদ্যুতে ছাড় এবং মজুরি বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ তুলে ধরছে তৃণমূল।
 
এই প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন আদিবাসী নেতা জন বারলা, যিনি একসময় বিজেপির হয়ে তরাই-ডুয়ার্সে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, কিন্তু এখন তৃণমূলের পক্ষে সক্রিয়। এছাড়াও নাগরাকাটার সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও তাজা। স্থানীয়দের দাবি, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলে তাঁর আগমন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন—২০২৬ সালের নির্বাচনী লড়াই কি শুধুই ক্ষমতার, নাকি মতাদর্শের সংঘর্ষ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে প্রচারের সূচনা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।