পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভোটের আর হাতে গোনা কয়েক দিন। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি বাড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ভবানীপুরের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল কমিশন।
একসঙ্গে চার জন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার জারি হওয়া নির্দেশিকায় সাউথ ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি-২) সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আলিপুর ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবানীপুরের যে অংশে ওই ঘটনা ঘটে, সেটি আলিপুর থানার অধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশনের সূত্রের খবর, শুধু কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ নয়, গোটা ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় ঘাটতির অভিযোগও উঠেছে।
বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভিতরেই। ঘটনার সূত্রপাত ২ এপ্রিল। ওই দিন ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দিতে যান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে এলাকায় রোড শো করেন তাঁরা।আরও পড়ুন:
রোড শো চলাকালীন শাহের কনভয় যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে পৌঁছয়, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষের পরিস্থিতির দিকে গড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কনভয় থামাতে হয়। শেষ পর্যন্ত বড় গাড়ি থেকে নেমে ছোট একটি গাড়িতে করে বাকি পথ অতিক্রম করে মনোনয়ন জমা দিতে যেতে হয় অমিত শাহকে। এই ঘটনাকেই ঘিরে পরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং তার জেরেই নির্বাচন কমিশনের এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বলে সূত্রের খবর।