দেশজুড়ে লাগাতার জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। গত দশ দিনে চার দফায় পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর সোমবার সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘মেহেঙ্গাই মানব’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

রাহুলের অভিযোগ, ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে নীরবে টাকা বের করে নেওয়া হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “মেহেঙ্গাই মানব মোদী আবার আঘাত হেনেছেন। কিস্তিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে মানুষের পকেট একটু একটু করে ফাঁকা হয়ে যায়।

লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, তিনি গত কয়েক মাস ধরেই দেশের সামনে আসন্ন অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হতেই জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় বাড়ানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “নির্বাচন চলাকালীন সরকার ব্যস্ত ছিল ভোট নিয়ে। ভোট মিটতেই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়ানো হল। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও চলবে বলেই আশঙ্কা।


গত ১৫ মে থেকে দেশে ফের জ্বালানির মূল্য সংশোধন শুরু হয়েছে। তারপর থেকে একাধিক দফায় দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে বলে মত অর্থনৈতিক মহলের একাংশের।

তেল সংস্থাগুলির দাবি, দীর্ঘদিন খুচরো বাজারে জ্বালানির দামে পরিবর্তন না হওয়ায় এখন পরিস্থিতির চাপে মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, টাকার দরপতন এবং তেল পরিশোধন খাতে লাভ কমে যাওয়ার কারণে আমদানির খরচ অনেকটাই বেড়েছে।
দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড  

তেল সংস্থাগুলির বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি  দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। তারই প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে। যদিও সরকারের দাবি, সংঘাতের প্রথম কয়েক মাস সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে রক্ষা করতেই পাম্পে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল।