পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শহিদ দিবসের মঞ্চে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বচসা এবং পরবর্তীতে বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্ট। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ ঘিরে ‘কালীঘাট’ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য রাখার কারণে মমতার প্রকাশ্য ভর্ৎসনার শিকার হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়েছিলেন বর্ষীয়ান এই সাংসদ। এরপরই সমাজমাধ্যমে দলনেত্রী ও দলের একাংশকে নিশানা করে তিনি সরব হন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এবার হয়তো অন্য কোনও শিবিরের দিকে পা বাড়াতে পারেন এই সাংসদ।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার রাতে করা ওই দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে সাংসদ সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ‘কালীঘাট সূত্র’ই দলটাকে ধ্বংস করে দেবে। মঞ্চের ঘটনাটির বিশদ বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্য চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে পৌঁছলে তিনি তাঁদের স্বাগত জানাতে কিছুক্ষণের জন্য ভাষণ থামিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলনেত্রীর কাছে অনুমতি নিয়েই তিনি পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে জনসমক্ষে ধমক দেওয়ায় তিনি তীব্র অপমানিত বোধ করেছেন। এর পাশাপাশি, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের তৈরি করা বক্তাদের তালিকা নিয়েও তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
একুশের মঞ্চে সুযোগ পাওয়া একাধিক ছাত্র ও যুব নেতার যোগ্যতা নিয়ে ওই পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।আরও পড়ুন:
সাংসদের এই বিস্ফোরক পোস্টের পরই দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ আরও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। একুশের মঞ্চে জায়গা না পেয়ে আগেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মানিকতলার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডে। রাতে কল্যাণের পোস্টটি শেয়ার করে তিনিও কালীঘাট নেতৃত্বকে প্রচ্ছন্ন খোঁচা দিয়েছেন। এই জোড়া ক্ষোভের আবহে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ক্রমশ আরও একা হয়ে পড়ছেন?