আবদুল ওদুদ: পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একাধিক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কসবায় পরিবহন দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান যে বর্তমান সরকার গঠনের মাত্র নয় সপ্তাহের মধ্যে পরিবহণ ক্ষেত্রে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি সমাজ ও রাজ্যের অগ্রগতির জন্য আধুনিক, স্বচ্ছন্দ ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বিগত সরকারের আমলের আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা এবং অন্যান্য প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুসমন্বয় বজায় রেখে পরিবহণ দপ্তরকে লাভজনক করে তোলার পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন,পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যে সিএনজি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ৪৩টি সিএনজি বাস ও ৭টি ইলেকট্রিক ভেহিকেলের উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি, কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন নিগম যেমন এনবিএসটিসি, ডব্লিউবিটিসি এবং এসবিএসটিসি-র ডিপোগুলিতে চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে নারীদের জন্য সরকারি গণপরিবহণ ব্যবস্থায় 'জিরো ভ্যালু টিকিট' বা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং যাঁদের কার্ডের প্রয়োজন তাঁদের জন্য পিংক কার্ড চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যানজট ও পণ্য পরিবহণের সমস্যা মেটাতে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ওপর চাপ কমাতে গার্ডেনরিচ থেকে শিবপুর, সাকরাইল ও হাওড়ার মধ্যে রো-রো সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মেট্রো পরিষেবা সম্প্রসারণ, জলপথ পরিবহণ এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ডোমেস্টিক এয়ারপোর্ট নির্মাণ ও কল্যাণীতে নতুন গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও কেন্দ্র সরকারের সহায়তায় বড় ধরণের রূপান্তরের কাজ চলছে।

আগামী দিনে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও উন্নত করতে এই সরকার বদ্ধপরিকর বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি আরও বলেন,মুখ্যমন্ত্রী তো খালি হাতে আসেন না। ৪০০ বাস চেয়েছেন, টেন্ডার করে দিন, ৪০০ বাসের টাকা পেয়ে যাবেন। আমাকে সিএস বলছিলেন, ৪০০ তো এখন আপনি দেন, আমরা রেডি। মার্চ ২০২৭ এর মধ্যে, ১০০০ নতুন বাস পরিবহন দপ্তর কে দেয়া হবে।