পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গত বছর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করে তাদের 'জগাই-মাধাই-গদাই' বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এক বছর পার হতেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গিয়েছে। রাজ্যপাট হাতছাড়া হওয়া এবং দল তিন টুকরো হয়ে যাওয়ার পর, অস্তিত্ব সংকটে পড়া মমতা এখন মরিয়া হয়ে সেই বাম ও কংগ্রেসেরই হাত ধরতে চাইছেন। গত পঁচিশে বৈশাখ নিজের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রথমবার জোটের প্রস্তাব দেওয়ার পর, মঙ্গলবার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের সমাবেশ থেকেও ফের সেই একই বার্তা দিলেন তিনি।

এদিন কারও নাম না করেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের পাশাপাশি বাংলাতেও 'ইন্ডিয়া' জোটের হয়ে লড়তে তিনি প্রস্তুত। তাঁর দাবি, কারও প্রতি তাঁর কোনও ইগো, ক্ষোভ বা অসন্তোষ নেই। বরং বিরোধী দলগুলিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আজ বিজেপির কথায় যারা মিটিং-মিছিল করছে, তৃণমূল শেষ হলে আগামী দিনে তাদেরও শেষ করে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত পঁচিশে বৈশাখের মতো এদিনও আকারে-ইঙ্গিতে বাম, অতি-বাম ও কংগ্রেসকেই পাশে চেয়েছেন মমতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, নিজের সুবিধামতো জোট গড়া বা ভাঙায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপির হাত ধরে তিনি তৃণমূল গঠন করেন। এরপর কখনও এনডিএ, কখনও ইউপিএ-র শরিক হয়েছেন। ২০০১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ব্যর্থ হওয়ার পর ফের এনডিএ-তে ফিরে যান।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ফের কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতাসীন হন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার দু'বছরের মধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করে রাজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন তিনি।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে গঠিত 'ইন্ডিয়া' জোটে তৃণমূল অন্যতম বড় শক্তি হলেও, মমতা কখনোই জোটের প্রতি খুব একটা সদর্থক মনোভাব দেখাননি। বাংলায় আসন রফায় না যাওয়া, একাই সব আসনে প্রার্থী দেওয়া, রাহুল গান্ধীর 'ন্যায় যাত্রা'কে কটাক্ষ করা এবং জোটের বৈঠকে নিজে উপস্থিত না থাকার মতো ঘটনা তারই প্রমাণ। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত ও দল ভাঙার পর তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন। তবে
দুর্দিনে মমতার এই জোটবার্তাকে আমল দিতে নারাজ বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন এবং আজ খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে সাহায্য চাইছেন।