পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও নতুন করে থাবা বসাল করোনাভাইরাস।  জানা যাচ্ছে, রাজ্যে চার জনের দেহে কোভিড সংক্রমণের হদিস মিলেছে, যা ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে ফের আতঙ্ক বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিন জন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এক কিশোর। রোগীদের প্রধান উপসর্গ হিসেবে দেখা দিচ্ছে জ্বর, মারাত্মক কাশি, গলা ব্যথা এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট। আক্রান্তদের তালিকায় ১১ বছরের এক শিশুও রয়েছে, যাকে পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল ইউনিটে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কোভিডের সংক্রমণ বৃদ্ধির মুখে চিকিৎসকেরা ‘সেলফ মেডিকেশন’ বা নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার প্রবণতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাসঘটিত রোগে অনর্থক অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কোনো উপকার তো মেলেই না, উলটে শরীর ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট’ বা ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। ফর্টিস হাসপাতালের ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ ড. শুভজিৎ সেন সতর্ক করে জানান, কোভিডের চিকিৎসায় প্রাথমিক অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। আগে থেকে ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তীতে কোনো গৌণ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ দেখা দিলে তখন প্রকৃত চিকিৎসায় জটিলতা তৈরি হয়। তাই জ্বর বা কাশির উপসর্গ দেখা দিলে নিজে ওষুধ না কিনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্ষাকালে এমনিতেই বিভিন্ন ভাইরাসঘটিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে কোভিডের পাশাপাশি অ্যাডেনোভাইরাসের দাপটও নজর কাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কোভিডের মতো উপসর্গ দেখা দিলে রোগীদের ‘আপার রেসপিরেটরি বায়োফায়ার টেস্ট’ করানোর কথা বলছেন চিকিৎসকেরা। এই বিশেষ প্যানেল টেস্টের মাধ্যমে শরীরে কোভিডের পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনো কিংবা অ্যাডেনোভাইরাসের মতো অন্যান্য ভাইরাসের উপস্থিতি সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। শারীরিক জটিলতা এড়াতে এবং কোভিডের বিস্তার রুখতে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য মহল।