পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝেই নিজেদের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করল তামিলনাড়ুর শাসকদল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয় জানিয়েছেন যে, তাঁরা কেবল নিট পরীক্ষায় হওয়া দুর্নীতিরই বিরোধী নন, তাঁদের মূল দাবি হল এই সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা। চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলিকেই পূর্ণ অধিকার দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। বিজয়ের দল টিভিকে -র পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে যে, এই বিষয়ে তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় এবং তারা কোনও রকম আপসের পথে হাঁটবে না।
এই ইস্যুতে নাম না করে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে-কেও তীব্র আক্রমণ করেছে টিভিকে।

দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভোটের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিট বাতিলের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা কখনোই 'প্রতারণামূলক রাজনীতি'র আশ্রয় নেবে না। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ডিএমকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যে নিট বাতিল করবে। সেই দিকে ইঙ্গিত করেই টিভিকে জানিয়েছে যে, স্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন— যে কোনও সমাধানের ক্ষেত্রেই তাদের দলের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্বচ্ছ, যা দলের সর্বোচ্চ নেতা ইতিমধ্যেই সর্বসমক্ষে তুলে ধরেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনকে বিরোধীরা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে শাসকদল।
উল্লেখ্য, নিট দুর্নীতি নিয়ে বর্তমানে গোটা দেশ উত্তাল।
গত ৩ মে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র পরিচালনায় প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া নিট ইউজি  পরীক্ষায় বসেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার কিছুদিন পরই রাজস্থানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মারাত্মক অভিযোগ সামনে আসে। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত এক মাস আগে কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পৌঁছেছিল। ওই প্রশ্নপত্রে থাকা ৪১০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টি রসায়নের প্রশ্ন এবং তার উত্তরের অপশন আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এই নজিরবিহীন জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বাধ্য হয়ে পরীক্ষা বাতিল করে এনটিএ এবং গত ২১ জুন পুনরায় এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।