প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর ২৭ দিনের অনশন প্রত্যাহার করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তার পরই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের লক্ষ্যে একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই খসড়া নিয়ে আলোচনা হবে এবং আগামী সোমবার সংসদে বিলটি পাস করানোর চেষ্টা করবে সরকার। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের স্বপ্নের ওপর আঘাত।

তাই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোদি আরও জানান, গত আড়াই মাসে তদন্তে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হওয়ার জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী সেই পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ইতোমধ্যেই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে সরকার শুধু পুনঃপরীক্ষাতেই সন্তুষ্ট নয়; ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতেই কঠোর আইনি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের শয্যায় বসেই অনশন ভাঙেন সোনম ওয়াংচুক।
সে সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো। হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহসহ আরও অনেকে। অনশন প্রত্যাহারের পর তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।
ওয়াংচুক জানান, সরকারের সিদ্ধান্তে তিনি কৃতজ্ঞ এবং আশাবাদী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সাংসদের অনুরোধ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং জানান, খুব শিগগিরই নিজের অবস্থান ও শর্তগুলি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীও ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, তিনি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

অন্যদিকে, ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থামছে না। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, ওয়াংচুকের আত্মত্যাগ দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও আন্দোলনের মূল দাবি এখনও বহাল রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিব বিনীত জোশীকে সরিয়ে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন শিক্ষাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নরেশ গংওয়ারকে।