পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট সহ অন্যান্য প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সরব হয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লিতে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে রাহুল স্পষ্ট জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোনো সন্ত্রাসী নয়, তাঁরা কেবল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও অধিকার দাবি করছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থার এই ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের দায় নিয়ে তিনি অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও ক্লিপ ও পরিসংখ্যান সম্বলিত স্লাইড প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করে রাহুল গান্ধি দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, "শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের দিকে নিরাপত্তারক্ষীরা অস্ত্র উঁচিয়ে ধরছে, তাঁদের পেটানো হচ্ছে। অথচ এই তরুণরা দেশের সেরা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে।" তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, "গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু একটিতেও কড়া শাস্তি বা সাজা হয়নি। প্রতি মাসে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে বলা হচ্ছে— যে কঠিন মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে তোমরা গিয়েছো, তা আবার সহ্য করো।
এই ভেঙে পড়া ব্যবস্থার কারণে দেশে প্রায় ৭.৫ কোটি শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।"

শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ ও আর্থিক খরচের খতিয়ান দিয়ে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি জানান, ভারতের পরিবারগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পড়ার পেছনে বার্ষিক প্রায় ১.৩২ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করে, যা সরকারের মোট শিক্ষা বাজেট (১.৪ লাখ কোটি টাকা)-এর প্রায় সমান। "পরিবারগুলির থেকে এটি একপ্রকার প্রকাশ্যে ডাকাতি! টাকা কেড়ে নেওয়ার পর তাদের বলা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে," মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে তিনি কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধে বলেন যে, ম্যানুফ্যাকচারিং, কর্পোরেট বা স্টার্টআপ— সর্বত্রই কাজের সুযোগ বন্ধ। ফলে তরুণদের একমাত্র ভরসা সরকারি চাকরি, আর সেই ব্যবস্থাকেও এখন দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলা হয়েছে।