পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অনুপ্রবেশকারীদের ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণের সুবিধার্থে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। হুগলির গুপ্তিপাড়ায় রথের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর নিশানায় রয়েছে তৃণমূলের তৎকালীন ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাক-ও। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির পরেই ভুয়ো শংসাপত্র চক্রের পর্দাফাঁস করতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নজিরবিহীন তৎপরতায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।

জাতীয় সুরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন কড়া ভাষায় তোপ দাগেন।

তাঁর সুস্পষ্ট অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আইপ্যাকের কর্মীরা বেআইনিভাবে এই বার্থ সার্টিফিকেট বা জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করার বেআইনি কারবার চালিয়েছে, যা এক বৃহত্তর দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিষয়টিকে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পুলিশ প্রশাসন বাজেয়াপ্ত করছে। সেই সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে তা স্ক্যান করে সিল করে দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কলম বা কালির সাহায্যে তাতে নতুন করে কোনওরকম জালিয়াতি না করা যায়।

রাজনৈতিক এই সংঘাতের মাঝেই অনুপ্রবেশকারী এবং প্রকৃত শরণার্থীদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য টেনে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) আওতায় অনুমোদিত প্রকৃত শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না।

তবে যারা বেআইনিভাবে এ দেশে প্রবেশ করেছে, সেই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিতাড়িত করা হবে। পাশাপাশি যে সমস্ত সরকারি কর্মী বা আধিকারিক এই ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দোষীদের প্রথমে বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে, এরপর সাসপেনশন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁদের কারাবাসের সাজা ভোগ করতে হবে বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। কে বা কারা নির্দেশ দিয়ে এই কাজ করিয়েছে, তা-ও দোষীদের মুখ থেকে বের করা হবে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।

এই বৃহৎ দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতা, দুর্গাপুর, নদিয়া, বীরভূমের সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর এবং কোচবিহার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে হানা দিয়েছে তদন্তকারী দল। বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভা থেকে রেজিস্টার এবং জরুরি নথি সংগ্রহ করেছে পুলিশ।