পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হল ‘গুন্ডাদমন আইন’। নয়া এই আইনের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬’। রাজ্যে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট ‘হার্মাদ’ এবং গত ১৫ বছরের তৃণমূল আমলের ‘গুন্ডা’দের কড়া হাতে জব্দ করতেই এই আইনের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। গত শুক্রবার বারুইপুর পরিদর্শনে গিয়েই এই আইন কার্যকরের কথা প্রথম জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নতুন এই আইনে পুলিশ ও প্রশাসনকে নজিরবিহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।  নয়া বিধান অনুযায়ী, জননিরাপত্তার স্বার্থে বা বড়সড় অপরাধ সংঘটিত হওয়া ঠেকাতে, কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। এর পাশাপাশি আইনে যুক্ত করা হয়েছে ‘এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার’ বা এলাকাছাড়া করার বিশেষ ক্ষমতা। অর্থাৎ, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার অথবা ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও আধিকারিক যদি মনে করেন কোনও দাগী অপরাধীর উপস্থিতিতে অশান্তি ছড়াতে পারে, তবে তাঁরা ওই ব্যক্তিকে সর্বাধিক এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা গোটা জেলা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিতে পারবেন।

আইনটিকে অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর করতে এর আওতাভুক্ত সমস্ত অপরাধকে সম্পূর্ণ ভাবে জামিন-অযোগ্য করা হয়েছে।

এর ফলে পুলিশ বিনা পরোয়ানাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পারবে এবং সহজে জামিন পাওয়ার রাস্তাও বন্ধ হবে। পাশাপাশি, সমাজবিরোধী কাজকর্ম বা সিন্ডিকেটের মতো সংগঠিত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত বেআইনি টাকা বা সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার অধিকারও প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

নয়া এই আইনে ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’ শব্দের সংজ্ঞা ও পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এখন থেকে তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ, গায়ের জোরে সাধারণ মানুষের জমি ও বাড়ি দখল করা থেকে শুরু করে অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তোলা এবং বেআইনি খনি কারবারকেও সরাসরি সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য করা হবে। এমনকী, আন্দোলন বা ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও ধ্বংস করার প্রবণতা রুখতেও এই আইনে অত্যন্ত কড়া শাস্তির কথা বলা হয়েছে।