পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ সারদা কেলেঙ্কারি মামলায় আদালতের রোষের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। কেন এখনও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হল না? কেন মূল অভিযুক্ত এখনও জেলে? এই সমস্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সিবিআইকে। এছাড়াও, প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রাজ্য পুলিশকে। সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের জামিনের মামলায় এভাবেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে।
আরও পড়ুন:
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে সারদা মামলা। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে সুদীপ্তর আইনজীবী জানান, ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল বিধাননগর থানার পুলিশ সুদীপ্তকে গ্রেফতার করে। সারদার বিরুদ্ধে ৩৮৯ টি মামলা ছিল। এদিকে, সিবিআই এই কাণ্ডের তদন্ত হাতে নেওয়ার পর ৭৬ টি মামলার তদন্ত শুরু করে। যার মধ্যে ৪ টি মামলায় ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছীন সারদা কর্তা। এদিকে, রাজ্য পুলিশের হাতে রয়েছে ৩০৮ টি মামলা।
তবে বারাসাত থানার ২টি মামলায় সুদীপ্তর জামিন আটকে রয়েছে বলে জানান তাঁর আইনজীবী। এছাড়াও, ২০২৪ সালে একটি মামলার নথি উদ্ধার হওয়ার বিষয় জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অভিযুক্তের জামিন হলে সেক্ষেত্রে আমানতকারীদের টাকা ফেরানো সুবিধা হবে।আরও পড়ুন:
সিবিআইকে ভৎসনা করে বিচারপতি বলেন, 'ট্রায়াল কবে শেষ করবে সিবিআই? শুধু জামিন পেয়ে যাওয়াটাই কি যথেষ্ট? ট্রায়াল করানোর কোনও দায় কি আপনাদের নেই?
' ফলে সঠিক সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার দায় যে কেন্দ্রীয় সংস্থার এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই, তা এদিন আদালতের কড়া কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।আরও পড়ুন:
এদিকে, সারদার সম্পত্তি বিক্রির হিসেব নিয়ে আদালতের কাছে রিপোর্ট পেশ করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, সারদার ৯টি বাংলো এবং একটি ফ্ল্যাট মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কেন জলের দরে বিক্রি হল, তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে প্রশ্ন করেন, '২০টি বাংলো আর ১০টি ফ্ল্যাট কীভাবে মাত্র ৫০ লক্ষে বিক্রি হয়? এটা কে করেছে?' এনিয়ে বিচারপতি রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।