পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-কে একটি "সভ্যতাগত শক্তি" হিসেবে বর্ণনা করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সংগঠনের জন্য কোনো শংসাপত্র বা বৈধতার প্রয়োজন নেই। দিল্লির উপরাষ্ট্রপতি ভবনে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, সঙ্ঘের আজ পর্যন্ত যতজন ‘সরসঙ্ঘচালক’ হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই সমাজে ভেদাভেদ এবং অস্পৃশ্যতার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। শ্যাম জাজু এবং অনুপম ত্রিবেদী রচিত এই বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, দিল্লি বিধানসভার স্পিকার বিজেন্দর গুপ্ত, আইজিএনসিএ-র সভাপতি রাম বাহাদুর রাই এবং আরএসএস প্রান্ত সঙ্ঘচালক পবন জিন্দালসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কংগ্রেস নেতা ও কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের তোলা "আরএসএস কেন নিবন্ধিত বা রেজিস্টার্ড নয়" সংক্রান্ত প্রশ্নের কড়া জবাব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই ধরণের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না, কারণ ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সংগঠন গড়ার অধিকার দিয়েছে।
সঙ্ঘের স্বতন্ত্রতা বোঝাতে গিয়ে রাজনাথ সিংহ বেশ কিছু উপমা টেনে বলেন, "একজন মায়ের ভালোবাসার জন্য কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। একজন গুরুর দেওয়া সংস্কার বা মূল্যবোধ কোনো সরকারি সিলের ওপর নির্ভর করে না। মা গঙ্গার বয়ে চলার জন্য কোনো লাইসেন্স লাগে না, কিংবা সূর্যের আলো ছড়াতে কোনো রেজিস্ট্রেশনের দরকার হয় না। ঠিক তেমনই আরএসএস হলো একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনো শংসাপত্র বা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
"

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্বে সম্ভবত এমন কোনো দ্বিতীয় সংগঠন নেই যা কোনো রকম অভ্যন্তরীণ বিভাজন বা ভাঙন ছাড়াই এত দীর্ঘ সময় ধরে এত বিশাল আকারে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। তাঁর মতে, এটি সম্ভব হয়েছে সংগঠনের নেতৃত্ব এবং তাদের মূল আদর্শের কারণে। সঙ্ঘের নিঃস্বার্থ সেবার কথা উল্লেখ করে রাজনাথ বলেন, "সঙ্ঘের মূল দর্শন হলো— ‘সবকিছু দেশের, আমার নিজের কিছু নেই।’ আপনারা কখনোই সঙ্ঘকে নিজেদের কাজের বড়াই করতে বা প্রচার করতে দেখবেন না। যশের প্রতি উদাসীনতা এবং প্রচারবিমুখতাই সঙ্ঘের মৌলিক নীতি।"