সফিকুল ইসলাম: দেশের প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসেবে সপ্তসিন্ধু জয়ের লক্ষ্যে জাপান যাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার সাঁতারু সায়নী দাস। কালনার মেয়ে সায়নী এবার জাপানের সুগারু চ্যানেল পার হতে চলেছেন। ফলে নতুন ইতিহাস গড়ার সামনে সায়নী।  

কালনার বারুইপাড়ার বাসিন্দা সায়নী দাস দীর্ঘ বছর ধরে সাঁতারু হিসাবে একাধিক দুর্গম চ্যানেল পার করেছেন।

ষষ্ঠসিন্ধু স্পেনের জিব্রাল্টার প্রণালী জয়ের পর, সায়নী  দেশের মধ্যে অন্যতম সাঁতারু হিসাবে জাতীয়  পুরস্কার  পেয়েছেন। বিশ্বে মোট দু’জন এই জয়ের গৌরব পেয়েছেন, একজন সায়নী এবং অন্যজন আমেরিকার সাঁতারু রিয়ন হিদিকে উৎসুমী। 

২০১৭ সালে  ইংলিশ চ্যানেল জয় করে সকলের নজরে আসেন সায়নী। তারপর নর্থ চ্যানেল, জিব্রাল্টার, কুকস্টেট প্রণালী, ক্যাটালিনামলোকাই জয় করেছেন।

সাহসিকতার জন্য ভারতের অন্যতম সাঁতারু হিসাবে তেনজিং নোরগে পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে। এবার লড়াই কঠিন জেনেও সায়নী সুগারু  চ্যানেল পার হবেন। জানা গিয়েছে, জাপানের কোডমারি থেকে ফুকুশিমা পর্যন্ত চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এই জলপথ পার হতে আঁকাবাঁকা পথ, কনকনে ঠান্ডা, স্রোতের বিপরীতে দিকে যেতে হবে।
 

এরই মধ্যে সায়নীকে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে জাপানের সুগারু সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে। তাঁকে বলা হয়েছে, হাঙর হামলা, বড়ো আকারের টুনা ফিস এবং জেলি ফিসের উৎপাত হতে পারে। জাপান যাওয়ার আগে সায়নীর হাতে বিশেষ পোশাক তুলে দিয়েছে কালনার এসকেএম স্পোর্টস ফাউন্ডেশন। বাবা ও মায়ের সঙ্গে কলকাতা- সিঙ্গাপুর হয়ে টোকিও যাবেন সায়নী। সেখান থেকে বুলেট ট্রেনে ৭০০ কিলোমিটার দূরে যাবেন। তার পর অনুশীলন শেষে জুলাই মাসের ৩ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে সুগারু চ্যানেল জয় করতে জলে নামবেন। প্রতিকূলতা যতই থাকুক, জাপানের মাটিতে ভারতের পতাকা উড়িয়ে ঘরে ফেরার কথা জানালেন সায়নী।