পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সুদানে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী রাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের  (আরএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষ তৃতীয় সপ্তাহে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘ভাঙনের মুখে সুদান।’ শুক্রবার ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা সত্ত্বেও শনিবার (সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে লড়াই অব্যাহত ছিল। রাজধানী খার্তুম, পার্শ্ববর্তী শহর বাহরি এবং ওমডুরমান বিমান, ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারির হামলায় মুহুর্মুহু কেঁপে ওঠেছে।

ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেলদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ ১৫ এপ্রিল থেকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ভয়াবহ এই সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৫৫০মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং ৪,২০০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।  রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘দেশ যখন ভেঙে পড়ছে তখন ক্ষমতার জন্য লড়াই করার কোনও মানে হয় না।

  সেনাপ্রধান এবং সুদানের শাসক আধেল ফাত্তাহ আল বুরহান এই সংঘর্ষের জন্য আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালোকে দায়ী করেছেন। আরএসএফ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান এবং বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অপরদিকে আরএসএফ নেতা দাগালো ভয়াবহ এই সংঘর্ষের জন্য সেনাকে দোষারোপ করেছেন।

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ এরদোগান রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
এ সময় তিনি সুদানে শান্তি ফেরাতে সংলাপে বসার জন্য রাষ্ট্রসংঘ প্রধানের প্রতি আহ্বান জানান। ফোনে তারা চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সিরিয়া ও সুদানের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন।

এরদোগান বলেন, ‘তুরস্ক সুদানের দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা শুরু করতে পারে। সুদানের যুদ্ধরত দুই পক্ষকে শান্তি আলোচনায় আমন্ত্রণ জানাতে এবং তাদের মতপার্থক্য সমাধানে সহায়তা করতে রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তুরস্ক।’ চলমান যুদ্ধ নিয়ে সুদানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত সিরিয়া ও লিবিয়ার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। লড়াই চলতে থাকলে তা ‘বিশ্বের জন্য দুঃস্বপ্ন’ হবে বলে মন্তব্য তাঁর।