পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দুটি শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্র। দেশের পরবর্তী চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রহ্মণি (অবসরপ্রাপ্ত)। অন্যদিকে, ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন প্রধান (CNS) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নতুন সিডিএস: কে এই এন এস রাজা সুব্রহ্মণি?
আরও পড়ুন:
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনীতে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজা সুব্রহ্মণি এক বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের অধিকারী।
১৯৮৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি 'গড়ওয়াল রাইফেলস'-এর অষ্টম ব্যাটালিয়নে কমিশন লাভ করেন। সেনাবাহিনীতে তাঁর দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত দক্ষতার জন্য তিনি সুপরিচিত। তিনি পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল, সেনা মেডেল এবং বিশিষ্ট সেবা মেডেল-এ ভূষিত হয়েছেন। এর আগে তিনি সেনাবাহিনীতে ‘ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি এনডিএ এবং আইএমএ-র প্রাক্তন ছাত্র। কিংস কলেজ লন্ডন থেকে এমএ এবং মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে এমফিল করেছেন।আরও পড়ুন:
নতুন নৌবাহিনী প্রধান স্বামীনাথনের পরিচয়?
আরও পড়ুন:
ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন নৌবাহিনীর যোগাযোগ এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন।
নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ওয়েস্টার্ন নেভাল কমান্ডের ৩৪তম ‘ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ’ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। অত্যন্ত মেধাবী এই আধিকারিক জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি, কোচিন ইউনিভার্সিটি থেকে টেলিকমিউনিকেশনে এমএসসি এবং মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষায় পিএইচডি করেছেন। এছাড়া কিংস কলেজ লন্ডন থেকে তিনি ডিফেন্স স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল এবং বিশিষ্ট সেবা মেডেল প্রাপ্ত।আরও পড়ুন:
দেশের তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আধুনিক সমরাস্ত্র ও রণকৌশলগত পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে রাজা সুব্রহ্মণি ও কৃষ্ণ স্বামীনাথনের নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে সিডিএস পদটি ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই দক্ষ আধিকারিকের নেতৃত্বে ভারতের স্থল ও নৌবাহিনী আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মহল।