উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : কাকদ্বীপে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ-তে পরিচয় শনাক্তকরণ শুরু।প্রাকৃতিক দূর্যোগে এবার বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মর্মান্তিক ট্রলার দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ৯ জন মৎস্যজীবীর পচাগলা দেহ সোমবার কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়। একই সঙ্গে মৃতদেহ শনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। দেহগুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের খালি চোখে শনাক্তকরণের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষারও ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।জানা গিয়েছে, গত ২রা জুলাই দীঘার শংকরপুর থেকে 'জয় মা কালী' ট্রলারে ১৫ জন মৎস্যজীবী মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যান।

৪ জুলাইয়ের পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবর্ধনপুর উপকূল থানা  সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় হেলিকপ্টারের সাহায্যে উল্টে থাকা ট্রলারটির সন্ধান মেলেএর পর সুন্দরবন পুলিশ জেলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন, বনদপ্তর, উপকূল রক্ষী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।চারটি ট্রলারের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটিকে সীতারামপুর নদীর ঘাটে নিয়ে আসা হয় এবং সেখান থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় ৯ জন মৎস্যজীবীর নিথর দেহ।উদ্ধার অভিযানের প্রতিটি পর্যায়ে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। পাশাপাশি সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার,এসডিপিও-সহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা রবিবার রাতভর অভিযান পরিচালনা করেন।
পরে মৃতদেহগুলি ইন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতাল হয়ে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।কাকদ্বীপ হাসপাতালে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দেহ শনাক্তকরণের কাজ চলছে।ঘটনাস্থলে যান রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল।হাসপাতাল চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।এদিকে এখনও ৬ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন।
তাঁদের খোঁজে উপকূল রক্ষী বাহিনী ও যৌথ উদ্ধারকারী দল সমুদ্রে লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছে।এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে মর্মস্পর্শী ঘটনা, ওড়িশার বালেশ্বর জেলার একই পরিবারের তিন ভাই—রবীন্দ্র মাঝি, জয়রাম মাঝি ও জগন্নাথ মাঝি—এখনও নিখোঁজ। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কাকদ্বীপ হাসপাতালে এসে অপেক্ষা করছেন। গোটা উপকূল জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রশাসনের আশা, চলমান তল্লাশি অভিযানে দ্রুত নিখোঁজদের সন্ধান মিলবে।আর এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।