পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সোমবার কেন্দ্র সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণে শানাল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের চেনা স্লোগান ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’-কে একটি 'ধাপ্পাবাজি'বলে কটাক্ষ করে কংগ্রেস দাবি করেছে, মোদি সরকারের আসল নীতি হলো— "ন্যূনতম শাসন এবং সর্বোচ্চ আড়াল"। বিরোধী দলটির অভিযোগ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে আসলে "খাউঙ্গা, খানে দুঙ্গা, অউর খিলাউঙ্গা"-র সংস্কৃতি চলছে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মোদি সরকারের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের খতিয়ান তুলে ধরেন।

তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নরেন্দ্র মোদি যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, তখন তিনি বুক ফুলিয়ে এই দুর্নীতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

জয়রাম রমেশ তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন— ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নোটবন্দির সিদ্ধান্তকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং যে "সংগঠিত লুট এবং আইনি ডাকাতি" বলে বর্ণনা করেছিলেন, তা যে কতটা সত্যি ছিল, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখনকার ২০,০০০ কোটি টাকার একটি আর্থিক কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতেই ‘গুজরাট স্টেট পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-কে জোরপূর্বক ‘অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন-এর সাথে একীভূত বা মার্জ করা হয়েছিল। নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে মোদী সরকার প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকার একটি বিশাল "চন্দা দো, ধান্দা লো" (চাঁদা দাও, ব্যবসা নাও) চক্র চালিয়েছে।

জয়রাম রমেশের দাবি, তথাকথিত ‘মোদানি’ (মোদি-আদানি) সাম্রাজ্যের বিস্ফোরক বৃদ্ধি বর্তমান মোদী শাসনের আসল চরিত্র দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে। এই বিষয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘হাম আদানি কে হ্যায় কৌন’ সিরিজের অধীনে প্রধানমন্ত্রীকে ১০০টি প্রশ্ন করা হলেও, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি। একই সাথে, বহুল চর্চিত রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে ওঠা গুরুতর প্রশ্নগুলিকেও সরকার সবসময় এড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং জবাবদিহিহীনভাবে ‘পিএম কেয়ার্স ফান্ড’ তৈরি করার সমালোচনা করেন তিনি।